আনোয়ারুল ইসলাম, চিলমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চিলমারীতে মোটর সাইকেল, ট্রাক, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর সহ বিভিন্ন পেট্রোল ও ডিজেল চালিত যানবাহনে তেল না থাকায় অফিস, আদালত, হাট-বাজার সহ জরুরী কাজে মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। অপর দিকে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় যানবাহন মালিকের সাথে পাম্প কর্তৃপক্ষের অসাদাচরণে মারাত্মক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরাসরি নজরদারী কামনা করছেন বিভিন্ন মোটরযান মালিকগন। জানা যায় পেট্টোল পাম্পে তেল বিতরন সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প এবং খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায়—স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা নর্দেশনা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে মর্মে নির্দেশনায় উল্লেখ্য রয়েছে মর্মে জানাগেছে। এ ছাড়া, পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি প্রতিরোধ এবং সারি ব্যবস্থাপনার অবস্থা—এসব বিষয় জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ নিয়মিত রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের।এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার নাজমুল হাসান জানান, আমি আমার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক তবে নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ অনিচ্ছা প্রকাশ করে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
চিলমারী উপজেলায় মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তেল সংরক্ষণ, বিতরণ ও ভোক্তা অধিকার নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াটিয়া বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকরা মূখ খুললে বা আপত্তি জানালেই ভাড়াটিয়া বাহিনী লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ থেকে রেহাই পায়নি "আলোকিত সকাল " পত্রিকার সাংবাদিক ইউনুস, অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ মাহমুদ বাবুল, ছাত্র রিফাত মাথায় রক্তাক্ত, ব্যাবসায়ী সাইফুল নাক ফেটে রক্তাক্ত করা, শিক্ষক রাজুকে লাঠি সোটা দিয়ে পিছনে ধাওয়া দেয়া। ডিস ব্যবসায়ী মোস্তফা কে আঘাতে আহত করে মোটরসাইকেল ফেলে দেয়া ইত্যাদি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে, সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১ টা/দেড়টা পর্যন্ত মোটরযানে আবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ছয় চাকার গাড়িতে। নির্দিষ্ট সময়ে তেল দেয়ার কারণে ভোর রাত থেকে গাড়ির লাইন ২ কি.মি. পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। প্রতিটি যানবাহন তেল পায় ১লি. অথবা ২০০ টাকার । বিপরীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহন তেল দেওয়া হয় ৫০০/১০০০ টাকার।
জানা গেছে, প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় লাইনে থাকা সব গাড়িতে তেল না দিয়ে, তেল দেয়া বন্ধ করে দেয়। আবার কর্মচারীরাও তাৎক্ষনিক ভাবে তেল প্রদানকালে গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০/২০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বেশি করে তেল দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব স্বেচ্ছাচারী কাজের ফলে গ্রাহকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, ফলে প্রতিদিনই মারামারি ও সংঘর্ষ লেগেই থাকে।
তাছাড়া গ্রাহকদের অভিযোগ, লাইন দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনকে তেল না দিয়ে, নিজস্ব পরিচিত লোকদের জ্যরিক্যানে/ বোতলে তেল দেয়া, তাছাড়া রাতের আঁধারে ১০/১৫ লিঃ করে ড্রামে ও জ্যরিক্যানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশী দামে তেল বিক্রি করে দেয়া।
স্থানীয় সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বুলু অভিযোগ করেন যে, তার সামনে পাম্প মালিকের নিজস্ব লোকদের তিনটি মোটরসাইকেলে পেট্রোল দিলো ১০০০ টাকার আর আমাকে ২০০ টাকার পেট্রোলের অনুমতি দেন। উক্ত পাম্পের মালিক আলহাজ্জ মাহাফুজার রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ব্যবসায়ী কলিগকে দিলে তোমাকেও দিতে হবে নাকি। এসব অনৈতিক কর্মকান্ড,স্বেচ্ছাচারীতা ও পালিত গুন্ডা বাহিনীর মাধ্যমে গ্রাহক সাধারনের উপর চড়াও হয়ে লাঞ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের নিকট গ্রাহকরা জোরালো দাবী তুলেছেন। এসব বন্ধে বিভিন্ন সংস্থা- যেমন বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র্যাব , পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালত ও অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
