জাকিরুল ইসলাম বাবু,
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নে দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারিভাবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে ৯ কেজি থেকে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জানা যায়, নয়ানগর ইউনিয়নের ৩৬০০ দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ জন্য ইউপি সদস্য ও প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে মাষ্টার রোল প্রস্তুত করা হয়।
পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসক শবনম মুস্তারীর তত্ত্বাবধানে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে দুপুরের দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে চাল বাইরে পাঠানোর ঘটনাও দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেক বস্তায় পাঁচজন কার্ডধারীর চাল রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই কার্যক্রম বন্ধ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাল নিতে আসা কয়েকজন উপকারভোগী জানান, তাদের ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ৯ কেজি ৪০০ থেকে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শবনম মুস্তারী বলেন, তার ইউনিয়নে মোট ৩৬০০ জন উপকারভোগীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। শনিবার ১, ২, ৩ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের মোট ১২০০টি কার্ডধারীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ওজনে সামান্য কমবেশি হতে পারে। সরকার থেকে যে পরিমাণ চাল পাওয়া গেছে, তা উপকারভোগীদের মধ্যেই বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা প্রায় সাড়ে নয় কেজি করে চাল দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি।”
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়ার কথা। কোনোভাবেই ১০ কেজির কম দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ১০ কেজি করে চাল বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
