মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ, শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চালিতাঘাটা বাজারের সরকারি সেডের ইজারা বাতিলের দাবিতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীদের আয়োজনে এবং চালিতাঘাটা প্রভাতী সংঘের সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ভুরুলিয়া বাজার কমিটির সেক্রেটারি ও ব্যবসায়ী মহাসিন রেজা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম লিয়াকত আলী। এছাড়া বক্তব্য দেন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনারুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটির সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রাজু আহমেদ আজু, চালিতাঘাটা প্রভাতী সংঘের সভাপতি আব্দুল আজিম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সাগর, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম এবং প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিথুসহ অনেকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, বাজারের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সেডটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি মো. হোসেন আলী ‘মিম অ্যান্ড জিম এন্টারপ্রাইজ’ এবং মো. মহিবুল্লাহ ‘মহিবুল্লাহ স্টোর’ নামে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। পাশাপাশি ‘এবাদুল স্টোর’ নামেও একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা সাইনবোর্ডগুলো অপসারণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি এই সেডটি গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়বেন। তারা অবিলম্বে ইজারা বাতিলের দাবি জানান।
ইউপি সদস্য আনারুল হক বলেন, “এই সেডের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করছেন। হঠাৎ ইজারা দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত এ ইজারা বাতিলের দাবি জানাই।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান জি এম লিয়াকত আলী বলেন, “জনস্বার্থবিরোধী এই ইজারা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দাবি আদায় না হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মহিবুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তৎকালীন নায়েব রেজাউল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো হাট বা বাজার ইজারা দিইনি এবং দেওয়ার আইনগত সুযোগও নেই। জেলা প্রশাসকের অনুমোদিত চান্দিনা ভিটা ইজারা দেওয়া যেতে পারে। কোনো ইজারাগ্রহীতা অন্য স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করলে তা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
