চলনবিলের বিলশায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, উন্মুক্ত হলো পর্যটন এলাকা



মোঃ আশরাফুল ইসলাম, গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিলের পর্যটনকেন্দ্র বিলশায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩৬টি ছোট-বড় অবৈধ (দোকান) ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের বুক চিরে চাঁচকৈড় থেকে বিলশা হয়ে সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার কুন্দইল পর্যন্ত নির্মিত সড়কের পাশে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এরিয়া বিলাশায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিভিন্ন দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে ওঠে। এসব স্থাপনার কারণে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ স্থাপনা অপসারণে একাধিকবার নোটিশ ও মাইকিং করা হলেও দখলদাররা তা আমলে নেয়নি। 

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষে দুটি ইউনিট কাজ করে। একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দেন ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ এবং অপর ইউনিটের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম। এ সময় থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে অবৈধ দোকানপাট, বিভিন্ন স্থাপনা এবং সড়কের পাশে রাখা খড়ের পালাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। ফলে বিলশা এলাকার পরিবেশ উন্মুক্ত হয়েছে এবং পর্যটকরা এখন নির্বিঘ্নে চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন দোকান মালিক পুনর্বাসনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সরকারি দুইতলা বাজারে দোকান বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রভাব কাজ করতে পারে। প্রশাসন তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দোকান বরাদ্দ দিলে তারা পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “চলনবিলের সৌন্দর্য রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, সরকারি মার্কেটে আবেদনকারীদের যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের বিষয়গুলে মাথায় রেখে দোকান বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নবীনতর পূর্বতন
দৈনিক আমার পত্রিকা