চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বাসা থেকে উপজেলা পরিষদের আইসিটি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল পৌরসভার বসতিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জীবননগর উপজেলা পরিষদে সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে মাহমুদুর রহমানের কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ঘরের পাশের কক্ষে গিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মাহমুদুরের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, তাদের মধ্যে পারিবারিক কিছু কলহ চলছিল, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাধারণত হয়ে থাকে। তিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার রাতে তিনি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তার স্বামী একটি টুল নিয়ে আলাদা কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় সন্দেহ হলে অন্যদের সহযোগিতায় বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়। পরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ ঘটনায় জীবননগর থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাহমুদুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
