হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘর



রুপম চাকমা, দীঘিনালা প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন্ন ভাষাভাষী চৌদ্দটি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে তাদের বসতি ছিল মাচাংঘর। বৌদ্ধজ্যোতি নামে এক  ভিক্ষু আশংকা করে লিখেছেন পাহাড় থেকে ছবির মতো মাচাংঘর কি হারিয়ে যাবে? তিনি লিখেন, পাহাড়ের ভৌগোলিক পরিবেশ-প্রতিবেশ, অধিবাসীদের জীবিকা ও পাহাড়ি ভূমির জুমচাষের সঙ্গে লাগসই অভিযোজনের স্থাপত্যে গড়ে উঠেছে মাচাংঘরের ঐতিহ্য। আবার এই ঐতিহ্য প্রত্যেকের স্বতন্ত্র ধারার সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও পরিপুষ্ট করেছে। এ জন্য একই পাহাড়ে বসবাস করেও তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতি যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ, তেমনি মাচাংঘরের স্থাপত্যশৈলীতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কিন্তু বন উজাড়, পেশার পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এই মাচাংঘর।

পাহাড়ি মানুষের ক্রমেই জীবিকার পরিবর্তনের সঙ্গে সংস্কৃতির রূপান্তর ও বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় এখন অনেকে আর মাচাংঘরে বসবাস করেন না। যাঁরা ধরে রেখেছেন, তাঁরাও গাছ-বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণের অভাবে মাচাংঘরের স্থাপত্যশৈলীর ধরন বদলে ফেলেছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই আবাসস্থল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

বর্তমানে মাচাংঘরের পরিবর্তে মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত টেকসই পাকা, আধা পাকা টিনের ছাউনি বাড়ি করছেন। অথচ খাড়া পাহাড়ি পরিবেশে লাগসই ও টেকসই হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ শত শত বছর ধরে মাচাংঘরে বসবাস করেছেন। মাচাংঘরের বসবাসের কোনো পাড়ায় পাহাড় ধসে কারও মৃত্যু হওয়ার কোনো নজির নেই। এই স্থাপত্যরীতি না মেনে পাহাড় কেটে করা ঘরবাড়িতে পাহাড়ধসে ২০১৭ সালে তিন পার্বত্য জেলা শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নবীনতর পূর্বতন
দৈনিক আমার পত্রিকা
দৈনিক আমার পত্রিকা