চিলমারীতে চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা: দায় স্বীকারে কোহিনুর-আপেল দম্পতি কারাগারে

 


চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

চিলমারীতে দুই বছরের শিশু কন্যা আয়শা আক্তার হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত কোহিনুর-আপেল দম্পতি দায় স্বীকার করায় তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে কোহিনুর বেগম স্বীকার করেন যে, পাশের বাসায় খেলতে গিয়ে তার ছেলের হাতে থাকা কলম দিয়ে আয়শার চোখে আঘাত লাগে। এতে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে কোহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে রেখে রাতের অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় কোহিনুর বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে, কোহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশে তাদের কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক অন্য চারজন সন্দেহভাজনকে সম্মানের সাথে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক ব্যক্তি, শিশু ও তাদের অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে এই দম্পতির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

أحدث أقدم