বকশীগঞ্জে কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাস বাদ দিয়ে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের অভিযোগ!



বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জ্বালানির সঙ্কটের কারণে পাম্পে দীর্ঘ হচ্ছে লাইন।

তেল নিতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে বিভিন্ন পেশার মানুষের। 
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের অবস্থা যেন পোয়াবারো। একটি লাইনে সব পেশাজীবী মানুষকে এক সাথে তেল সরবরাহ করতো পাম্প কর্তৃপক্ষ। এতে করে হযবরল লেগেই থাকতো বকশীগঞ্জের একমাত্র তেল পাম্প পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনটিতে। এরই মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ১৫ এপ্রিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি লিখিত পত্র প্রদান করেন। ওই পত্রে সরকারি চাকুরিজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, কৃষক সহ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন ইউএনও মুরাদ হোসেন। আর এই নির্দেশনাকে অপব্যবহার করে পাম্প থেকে কতিপয় শিক্ষক তেল সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনার পর থেকে দুটি লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

একটি সাধারণ মানুষের জন্য অপরটি অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য।

কিন্তু কতিপয় শিক্ষক এই নির্দেশনাকে পুঁজি করে বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত না হয়ে পাঠদান কার্যক্রম বাদ দিয়ে তেলের জন্য পাম্পে অবস্থান করে তেল সংগ্রহ করেছেন।

কিছু শিক্ষক প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত না থেকে ভিড় করছেন পাম্পে। তাঁরা পাঠদান কার্যক্রমকে প্রাধান্য না দিয়ে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই চিত্র সরেজমিনে গেলেই পাওয়া যাচ্ছে। গত রবিবার দুজন শিক্ষকের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের একটি ভিডিও প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের জন্য সরকারি বন্ধের দিন তেল সরবরাহ করা গেলে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে তেল নেওয়া করা হচ্ছে তাঁতে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম জানান, কোন শিক্ষক যদি তেল সংগ্রহ করেন তাহলে বন্ধের দিন বা অফিস সময়ের বাইরে গিয়ে তেল নিতে হবে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানান, সরকারি নিয়ম অমান্য করে কোন শিক্ষকের তেল সংগ্রহের সুযোগ নেই। এসময় নিয়ম মেনেই সবাইকে তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান তিনি।
নবীনতর পূর্বতন