মো. আরফান আলী :
ঠাকূরগাঁওয়ের ১০ নম্বর জাবরহাট ইউনিয়নের করণাই বাজারে একটি ফিডের দোকানে তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারী সেহেরীর আগে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মুনিরুল ইসলাম জানান, তার দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাজারের নাইটগার্ড মুসাব্বির ও জহিরুল ইসলাম তোতা স্থানীয়দের নিয়ে চোরদের একজনকে আটক করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটপাড়া পুরাতন পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে এবং বন্দরপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের জামাই রনী (২৭) চুরি করেণ। রনির ভাষ্যমতে, হাটপাড়া গ্রামের ওয়াজউদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসানও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে আরও কেও জড়িত রয়েছে কিনা তা তৎক্ষণাৎ জানা যায়নি।
ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, বড় ধরনের চুরির ঘটনায় শুধু জরিমানা আদায় করে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া আইনসম্মত নয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের পরিবার ও শ্বশুর প্রভাবশালী হওয়ায় অর্থের বিনিময়ে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধি অনুযায়ী চুরি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী চাইলে থানায় মামলা দায়ের করতে পারেণ। ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয় সালিশে নিষ্পত্তি করা হলেও, তা আইনগত বিচারের বিকল্প নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কী না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে এলাকাবাসীর একটি অংশ চান, বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত হয়।
করণাই বাজারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
