তাড়াইলে বিকল সৌরবাতি, অন্ধকারে জনদু'র্ভোগ হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ



রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হাটবাজার ও জনবহুল এলাকায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছিল সৌরবিদ্যুৎচালিত স্ট্রিট লাইট। প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার স্টিলের খুঁটির ওপর বসানো এসব সৌরবাতির মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করা, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করা।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থাপনের কয়েক বছরের মধ্যেই উপজেলার অধিকাংশ সৌরবাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকলেও এগুলো মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে স্থাপিত স্টিলের খুঁটিগুলো এখনও দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ লাইট বহু আগেই নিভে গেছে। কোথাও ব্যাটারি নষ্ট, কোথাও সৌরপ্যানেল অকেজো, আবার কোথাও পুরো লাইটই অচল হয়ে পড়ে আছে। রাত নামলেই এসব এলাকায় নেমে আসে ঘন অন্ধকার। এতে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি অনুযায়ী মাত্র এক বছর রক্ষণাবেক্ষণ করলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কোনো খোঁজ নেয়নি। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর তদারকি বা মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি অর্থে স্থাপন করা কোটি কোটি টাকার সৌরবাতি এখন শুধু নামমাত্র দাঁড়িয়ে আছে। জনগণের করের টাকায় নির্মিত প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়ন, তালজাঙ্গা ইউনিয়ন, রাউতি ইউনিয়ন, ধলা ইউনিয়ন, জাওয়ার ইউনিয়ন, দামিহা ইউনিয়ন ও দিগদাইড় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য এলাকায় স্ট্রিট লাইটগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, বিকল সৌরবাতির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

তালজাঙ্গা ইউনিয়নের দেওথান ও ঘোষপাড়া গ্রামের মেনু মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়া সহ উপজেলারা অনেক ভুক্তভোগী দ্রুত এসব স্ট্রিট লাইট মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকৃত সুফল পেতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সৌর স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় কোটি কোটি টাকার এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অচিরেই সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু বলেন, স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পর এক বছরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছিল। বর্তমানে এগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে করার প্রয়োজন রয়েছে।
أحدث أقدم
দৈনিক আমার পত্রিকা
দৈনিক আমার পত্রিকা