ভিজিএফ উপকার ভোগীর সংখ্যা নির্ধারন ও মনোনীত করা সহ বিতরনে আমূল পরিবর্তন আনা দরকার



মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, চিলমারী ( কুড়িগ্রাম)  প্রতিনিধিঃ 
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দুঃস্থ ও অসহায়দের খাদ্য সহায়তায় পূর্বের পদ্ধতিতে পরিবর্তন হওয়া জরুরী। উপকার ভোগীর সংখ্যা নির্ধারন, তাদেরকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা নিয়মের অনুসরন করতে গিয়ে দিন দিন গ্রামাঞ্চলে দুঃস্থ-অসহায়রা সরকারী এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিগত অন্তরবর্তিকালীন সরকারের আমলে চিলমারী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগনের মধ্যে ৪ জনই বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার কারনে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময়  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সেবা কার্যক্রম কোন রকমে চালিয়ে নিয়েছেন। ফলে গত ঈদ-উল ফিতরে সুবিধাজনক স্থানে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে কিছুটা ভিজিএফ ও জিআর এর চাউলের হিস্যা দেওয়ায় উপকার ভোগী দুঃস্থ-অসহায়দের বিরাট অংশ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গত ১৬/০৫/২০২৬ ইং তারিখে উপজেলার সদর ইউনিয়ন থানাহাট ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ বিতরন কর্মসূচির  উদ্ধোধন করেছেন চিলমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার। প্রতিদিন তিনটি ওয়ার্ডের মানুষকে ভিজিএফ বিতরন করে তিন দিনে মোট ৯টি ওয়ার্ডের বিতরন শেষ হবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মিলন জানিয়েছেন। তবে গত ঈদে বিতরনকৃত ভিজিএফ মূল উপকার ভোগীদের মতই আসন্ন ঈদেও এ অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। সরেজমিন ১৮/০৫/২০২৬ ইং থানাহাট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেছে,  অধিকাংশ উপকার ভোগীরা তাদের চাউল রাস্তায় বসা বিভিন্ন কানি পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। অনেকে আবার কাধে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার ৩ জন মিলে ত্রিশ কেজি চাউলের বস্তা নিয়ে অন্যের কাছে দশ কেজি করে ভাগ করে নিচ্ছেন।

শোনা যায়, এই মাপকারীও দশ কেজিতে এক কেজি কম দেন। তবু যেন উপকার ভোগীদের কোন আপসোস নেই। কারন অনেকেই আবার একাধিক স্লিপ পেয়ে বেজায় খুশি। নাম না জানা জনৈক বৃদ্ধ নারী ভিজিএফ লাইনেনর বাইরে বসে আছেন। তার কাছে কোন কার্ড বা স্লিপ নেই। তিনি জানান, মেম্বার আমার কাছে এনআইডি কার্ড চেয়েছেন, তা সবে মাত্র জমা করেছি কিন্তু কোন স্লিপ আমি পাইনি। সংশ্লিষ্ট  ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মোক্তার আলী বলেন, আমার কাছে যারা এসেছেন তাদেরকে স্লিপ দিয়েছি কিন্তু কোন পাড়ায় যাইনি। উল্লেখ্য যে, বিগত ঈদে তিনি একই কায়দায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার একজনকে ডেকে কয়েকটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে তা বিতরণের অনুরোধ করেন। পরে ঐ অঞ্চলের অন্য দুঃস্থরা গেলেই বলেন তোমার স্লিপ অমুককে দিয়েছি। এতে স্লিপ বিতরণকারীকে অত্যন্ত বিব্রতকর অবস্থার সন্মুখীন হতে হয়েছে। তাই ভিজিএফ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবী। এটা করতে না পারলে উপকার ভোগী নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছলদের পাওয়ার লোভ,অর্থ, যোগাযোগ, নির্বাচনে ভোটদানের প্রতিশ্রুতি সহ দলীয় ও প্রভাবশালীদের  ভিড়ে গরীব, অসহায় এবং দুঃস্থরা অধিকার বঞ্চিত হয়ে নিঃশ্ব হয়ে উঠবে। ফলে তাদের অসহায়ত্বের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মানবতার ঢাল কোন একদিন ডুকরে ডুকরে কাদবে।
أحدث أقدم
দৈনিক আমার পত্রিকা
দৈনিক আমার পত্রিকা