রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকের টাকা গননা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৭) সকালে মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে দানের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ৪৩টি বস্তা ভরা হয়। পরে দিনভর চলে গণনার কাজ। দানসিন্দুকে টাকা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাও।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকের টাকা গননা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৭) সকালে মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে দানের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ৪৩টি বস্তা ভরা হয়। পরে দিনভর চলে গণনার কাজ। দানসিন্দুকে টাকা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাও।
গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর এ মসজিদের দানসিন্দুকের ৩৫ বস্তা টাকা টাকা গণনা করে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
এবার ছয় মাসে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, এবারের গণনা শুরুর আগে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা ছিল। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ৪৩ টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় ওই মসজিদের দোতলায়। সেখানে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র, ১০ জন শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় টাকাগুলো গণনা করেছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।
সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত।
কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী ১২ জন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হলে তার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।