নারায়ন চন্দ্র রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে দিনাজপুরে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত এ কার্যক্রমে প্রায় ১১ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় ৪২ বিজিবি দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধ্বংস কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযান ও বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে উদ্ধার এবং জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নির্ধারিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, টহল জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম সরকারের কঠোর অবস্থান এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ফলাফল অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।