ভূরুঙ্গামারী-রংপুর সরাসরি বাস সার্ভিস চালু রাখার দাবিতে আন্দোলন



কফিলুর রহমান, (ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে ভূরুঙ্গামারী-রংপুর সরাসরি বাস সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্ত উপজেলা ভূরুঙ্গামারী। সরাসরি বাস সেবা চালু রাখার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ ০১ জুন সকালে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতিকে আজকের মধ্যে দাবি মানার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। দাবি মানা না হলে  কুড়িগ্রামের কোচ মালিকদের সকল কোচ ভূরুঙ্গামারী থেকে চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই তালিকায় আছে-
এস এন পরিবহন, হক স্পেশাল, এলআরবি, বনফুল, অলংকার, লাম মিম ও নুর স্পেশাল সহ আরো কয়েকটি গাড়ি। পরবর্তিতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার গুরুতর রোগী, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এই সরাসরি বাস সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুড়িগ্রামে বাস পরিবর্তন করে রংপুর যেতে একদিকে যেমন প্রচুর সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। এটি কোনো একক সংগঠন বা দলের দাবি নয়, বরং দুই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে এবং ভূরুঙ্গামারীবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় এই আন্দোলন তীব্র রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা "আওয়াজ তোলো!, গর্জে ওঠো! 
দাবী মোদের একটাই- 
বাস সার্ভিস চালু চাই।" 
ইত্যাদি স্লোগানে বাস-ষ্টান্ডের সড়ক কাঁপিয়ে তোলেন।


এর আগে গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে উপজেলার কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতি কোনো ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় আজ আবারও রাস্তায় নামেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

এ বিষয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন কুমার সাহা জানান: "ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার মানুষের ভোগান্তি কমাতে রংপুরের সাথে সরাসরি বাস যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে শর্তসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হয় যে, কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির ৯টি এবং ভূরুঙ্গামারীর ৬টিসহ মোট ১৫টি বাস দৈনিক চলাচল করবে। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতি আকস্মিকভাবে ১ জুন থেকে এই সরাসরি বাস সার্ভিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।"
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এবং সরাসরি বাস সার্ভিস চালু না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন থামবে না।
أحدث أقدم
দৈনিক আমার পত্রিকা
দৈনিক আমার পত্রিকা