হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণে বড় অগ্রগতি ২০ একর জমি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর, শিগগিরই শুরু হবে নির্মাণকাজ

 

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :


হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণে আরও এক ধাপ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এ হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ২০ একর সরকারি জমি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (তারিখ) ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে জমির দলিল বন্দোবস্ত ও নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সাব-রেজিস্ট্রার শর্মি পালিত আইনি প্রক্রিয়া শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। এর ফলে হাসপাতাল নির্মাণে দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি আমির আবদুল্লাহ নিয়াজী, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি আজমল খান, উদ্যোক্তা ও সমাজ উন্নয়নকর্মী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, হাটহাজারী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক চৌধুরী, সাংবাদিক জাসেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্যোক্তা ও সমাজ উন্নয়নকর্মী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এই হাসপাতাল নির্মিত হলে হাটহাজারীসহ উত্তর চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলার মানুষ উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবে।” তিনি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি হাটহাজারীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এখন দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত সব জটিলতা নিরসন হওয়ায় খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললেই হাসপাতালের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম প্রস্তাবিত হাসপাতাল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। যোগাযোগ সুবিধা ও পর্যাপ্ত সরকারি খাস জমি থাকায় তিনি এখানে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনে প্রাথমিক সম্মতি দেন।

হাসপাতালটি চালু হলে হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও উত্তর চট্টগ্রামের আনুমানিক এক কোটিরও বেশি মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

أحدث أقدم