রত্নাই নদীর জরাজীর্ণ সেতু এখন মরণফাঁদ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আদিতমারীর হাজারো মানুষ



মোঃ তোছাদ্দেকুর রহমান,  লালমনিরহাট।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন দশকের পুরোনো একটি সরু সেতু বর্তমানে স্থানীয় মানুষের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়েছে এবং পিলারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। এই জরাজীর্ণ সেতু দিয়েই প্রতিদিন দুর্গাপুর ও ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের উৎপাদিত ধান, চাল, ভুট্টা ও সবজি জেলা শহরে নেওয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম দুর্গাপুর–ভেলাবাড়ি সড়ক। ওই সড়কের ওপর ১৯৯৩ সালে নির্মিত সেতুটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি বড় যান চলাচল করতে পারে না। একটি বড় গাড়ি উঠলে অপর প্রান্তে দীর্ঘ সময় যানজট সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তারা জানায়, প্রতিদিন স্কুল ও কলেজে যাওয়ার সময় ভাঙা সেতু পার হতে চরম আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

কৃষিপণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক ও পিকআপ চালকদের অভিযোগ, সেতুর রেলিং না থাকায় এবং পিলারে ফাটল ধরায় ভারী মালামাল নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে এই এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি পুন:নির্মাণের জন্য চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নকশার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নতুন সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সেতুটি দ্রুত প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হলে দুর্গাপুর ও ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

أحدث أقدم