জামালপুরে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস–২০২৬ পালিত আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

 




নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জামালপুরে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস–২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জামালপুর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, জামালপুর জেলা শাখা এর উদ্যোগে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২.০১ মিনিট থেকে ভাষা শহিদদের স্মরণে শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সকাল ১১ টায় জেলা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু মিলনায়তন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জামালপুর প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শওকত আলম মীর এবং সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আজিজুল হক। অতিথি বক্তা হিসেবে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রফেসর মোঃ আব্দুল হাই আলহাদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। তিনি বলেন, “একুশ আমাদের চেতনা, আমাদের অহংকার। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, মহান একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা শুধু আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আলোচনায় বাংলা ভাষার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং একুশের তাৎপর্য তুলে ধরলে বিশ্ববাসী আমাদের সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে—এটি বাঙালি জাতির জন্য গর্বের বিষয়।

বক্তারা আরোও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তি স্থাপন করেছে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় শহিদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করতেই এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দিবসটি উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, রচনা, চিত্রাঙ্কন ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে অতিথিবৃন্দ তাঁদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন—

শাইরা জামান আরশি, ইশতিয়াক হোসেন, সুদীপ্তা দাস, সৃজিতা চক্রবর্তী তুষ্টি, আম্মার ইমতিয়াজ, হুমায়রা আদিবা, অমিত কর্মকার, দেবস্মিতা অধিকারী অচিন, বাকিরা, রুপা আক্তার, আফিয়া, খাদিজা হক, রাউফুন্নাহার রাদিয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস তানিয়া, কামরুন্নাহার যুথি, মোছাঃ সাদিয়া সুলতানা, মোঃ শাকিল ইসলাম সহ আরো অনেক প্রতিযোগী।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি ও সৃজনশীল চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।






নবীনতর পূর্বতন