মো: তোছাদ্দেকুর রহমান মিদুল, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক এলাকায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আজও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় বহু প্রতীক্ষিত এ অবকাঠামোর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে কুড়ারপাড় বিলে প্রায় ৩৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণকালে আশপাশে পর্যাপ্ত সরকারি জমি না থাকায় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে সেতুর দুই পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়ি থাকায় আজ পর্যন্ত সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
সেতুটির দুই পাশে বসতবাড়ি থাকলেও মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ফেলে সেতুতে ওঠার জন্য একটি সরু কাঁচা পথ তৈরি করেছেন। তবে পথটি এতটাই সংকীর্ণ যে কেবল হেঁটে চলাচল করা যায়। মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান কিংবা ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর উভয় পাশে মাত্র ৪০০ মিটার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা গেলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হতো। এ দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট এল জি ই ডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, “সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে কাজ শুরু করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মানুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসবে না।
