নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার ও প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুরে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে আট পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জামালপুর সদর ও মেলান্দহ উপজেলার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে।
জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ডিভাইস ব্যবহার করার দায়ে সালেমা আক্তার (৩১) নামে এক পরীক্ষার্থীকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সালেমা আক্তারের বাড়ি ইসলামপুর উপজেলার তাবুরচর এলাকায়।
জামালপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। অভিযানের সময় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে নিষিদ্ধ ডিভাইস জব্দ করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে, মেলান্দহ উপজেলার চারটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৃথক অভিযানে আরও চার পরীক্ষার্থীকে নকলের অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনকে চার দিনের এবং তিনজনকে তিন দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মেলান্দহ উপজেলার জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে জামালপুর সদর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কামাল পারভেজ (৩০) কে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিন দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য পরীক্ষার্থীরা হলেন— আমিনুর রহমান জাকির, আনিসুর রহমান ও সাবিনা।
এছাড়া জামালপুর সদর উপজেলায় অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও তিন পরীক্ষার্থীর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, শুধু জামালপুর নয়— সারা দেশেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর বিভাগের একাধিক জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ডিভাইস জব্দ, জরিমানা এবং কারাদণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে প্রশ্নফাঁস রোধ, ডিজিটাল নজরদারি, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর জামালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল পরীক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত সারা দেশে এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
